নরসিংদীর পলাশ উপজেলার চরসিন্দুর বাজারের ব্যবসায়ী মনি চক্রবর্তী (৪২) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছে ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী।

শনিবার (৩১ জানুয়ারি) দুপুরে চরসিন্দুর বাজারে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বাজারের ব্যবসায়ী, নিহতের পরিবার-স্বজন, এলাকাবাসী, বন্ধু মহলসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, হত্যাকাণ্ডের ২৬ দিন পার হলেও এখনো মূল রহস্য উদঘাটন হয়নি। ঘটনায় ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার হয়নি। যদিও সন্দেহভাজন হিসেবে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তবে প্রকৃত হত্যাকারীদের শনাক্ত করা হয়নি বলে দাবি পরিবারের সদস্যদের।

দীর্ঘ সময়েও হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা। তারা দ্রুত সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে মনি চক্রবর্তীর হত্যার মূল রহস্য উন্মোচন এবং জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান।

মানববন্ধনে নিহতের বাবা মদন মোহন চক্রবর্তী বলেন, “মনি আমার বড় ছেলে। বিদেশ থেকে দেশে ফিরে আমার সঙ্গে ব্যবসায় সহযোগিতা করত। ঘটনার রাতে রাত ৮টার দিকে দোকান বন্ধ করে আমরা দুজনই বের হই। পরে সে সুলতানপুরের বাড়িতে খরগোশের খাবার দিতে গেলে দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত হয়। আমরা এর সঠিক বিচার চাই।”

নিহতের স্ত্রী অন্তরা চক্রবর্তী বলেন, “বৈবাহিক জীবনে কখনো তাকে কারও সঙ্গে খারাপ আচরণ করতে দেখিনি। আমরা আবার বিদেশে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। হঠাৎ এমন নির্মম হত্যাকাণ্ড মেনে নেওয়া খুব কষ্টকর। আমি বিধবা হলাম, আমার দুটি সন্তান বাবা হারাল। আমরা এই হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের দাবি জানাই।”

মানববন্ধনে আরও বক্তব্য রাখেন পলাশ উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আবু বক্কর সিদ্দিক, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সহসভাপতি ইকবাল হোসেন, চরসিন্দুর পাকড়াগঞ্জ বাজার কমিটির সভাপতি মোশাররফ হোসেন, বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক, নিহতের মা গঙ্গারানী চক্রবর্তী, ছোট ভাই রনি চক্রবর্তী, শিক্ষক আব্দুল হান্নান, বন্ধু মাসুদ ভুইয়া, রাকিব মিয়া ও রিপন চক্রবর্তীসহ অন্যান্যরা।

উল্লেখ্য, গত ৫ জানুয়ারি রাতে পলাশ উপজেলার চরসিন্দুর ইউনিয়নের সুলতানপুরে নিজ বাড়ির সামনে দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত হন ব্যবসায়ী মনি চক্রবর্তী।