আল্লাহ তায়ালার অসীম রহমতে আবারও আমাদের সামনে উপস্থিত হতে যাচ্ছে পবিত্র রমজান। রহমত, বরকত ও মাগফিরাতে ভরপুর এই মাস একজন মুমিনের জীবনে বারবার আসে না—প্রতিটি রমজানই হতে পারে জীবনের শেষ রমজান। তাই এই মাসকে যথাযথ প্রস্তুতি, গভীর উপলব্ধি ও দায়িত্ববোধ নিয়ে বরণ করা একজন মমিনের করণীয়।

পবিত্র কুরআন-এ আল্লাহ তায়ালা ঘোষণা করেছেন, মুমিনদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন আগের জাতিদের ওপর করা হয়েছিল, যাতে তারা সংযম শিখতে পারে। নির্দিষ্ট কয়েক দিনের এই ইবাদতে অসুস্থ বা সফররতদের জন্য ছাড় রয়েছে, আর সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কষ্টে যারা রাখতে পারে না, তাদের জন্য আছে ফিদইয়া। তবে রোজা রাখাই মুমিনের জন্য উত্তম, যদি তারা তা উপলব্ধি করে।

রমজান মাসের বিশেষ মর্যাদা আরও বেড়েছে এ কারণে যে, এ মাসেই নাজিল হয়েছে মানবজাতির হেদায়েতের দিশারি পবিত্র কুরআন। তাই রমজান হলো কুরআনের মাস, ইবাদতের মাস, আত্মসমালোচনার মাস এবং নতুনভাবে জীবন গড়ার মাস। প্রত্যেক মুসলমানের উচিত এই মাসকে আনন্দের সঙ্গে গ্রহণ করা এবং সর্বোচ্চ উপকার অর্জনের প্রস্তুতি নেওয়া।

১. রমজান পাওয়ার জন্য কৃতজ্ঞতা ও আন্তরিক দোয়া

রমজান পর্যন্ত জীবিত থাকা নিজেই এক বিশাল নিয়ামত। কত মানুষ গত রমজানে আমাদের সঙ্গে ছিলেন, কিন্তু আজ নেই। তাই রমজান পাওয়ার আগেই আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা উচিত।
রাসুলুল্লাহ হজরত মুহাম্মদ (সা.) রজব মাস এলে দোয়া করতেন—

“হে আল্লাহ! রজব ও শাবানকে আমাদের জন্য বরকতময় করুন এবং আমাদের রমজানে পৌঁছে দিন।”
দোয়া করতে পারি—

আল্লাহ যেন সুস্থতা দেন
ইবাদতের আগ্রহ বাড়ান
গুনাহ থেকে দূরে থাকার শক্তি দেন
রমজানকে কবুল করেন

২. আত্মসমালোচনা ও তাওবার সূচনা

রমজান আত্মশুদ্ধির মাস। তাই এই মাস শুরুর আগে নিজের জীবনের দিকে ফিরে তাকানো জরুরি।

নামাজে অবহেলা করেছি কি?

কারও হক নষ্ট করেছি কি?

গিবত, মিথ্যা, অন্যায় কাজে লিপ্ত হয়েছি কি?

রমজান আসার আগেই আন্তরিক তাওবা করা উচিত। কারও প্রতি অন্যায় করলে ক্ষমা চাওয়া উচিত।

৩. সুপরিকল্পিত ইবাদতসূচি তৈরি

রমজান দ্রুত চলে যায়। পরিকল্পনা না থাকলে অনেক সুযোগ হাতছাড়া হয়। তাই মাসব্যাপী একটি বাস্তবসম্মত ইবাদত পরিকল্পনা করা জরুরি।
নামাজ
পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাতে আদায়ের চেষ্টা
তারাবি ও তাহাজ্জুদে গুরুত্ব দেওয়া
কুরআন তিলাওয়াত
পুরো কুরআন একবার খতম করা
প্রতিদিন নির্দিষ্ট পরিমাণ তিলাওয়াত
অর্থসহ পড়ার চেষ্টা
জিকির ও দোয়া
রোজার সময় দোয়া কবুলের বিশেষ সময়
ইফতারের আগে, সাহরির সময়
শেষ দশকে বেশি বেশি দোয়া করা

৪. রোজার প্রকৃত চেতনা উপলব্ধি

রোজা শুধু খাওয়া-দাওয়া বর্জন নয়; বরং পুরো শরীর ও মনকে সংযত রাখা।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি মিথ্যা কথা ও অন্যায় কাজ পরিত্যাগ করে না, তার খাদ্য ও পানাহার ত্যাগের আল্লাহর কোনো প্রয়োজন নেই।”

অর্থাৎ—
চোখকে হারাম থেকে রক্ষা করা
জিহ্বাকে গিবত ও মিথ্যা থেকে বাঁচানো
কানকে অশ্লীলতা থেকে দূরে রাখা
হৃদয়কে হিংসা ও অহংকার থেকে মুক্ত রাখা
৫. দান-সদকা ও মানবিকতা বৃদ্ধি
রমজান সহমর্মিতা শেখায়। ক্ষুধার কষ্ট অনুভব করে আমরা গরিবদের দুঃখ বুঝতে পারি। তাই এ মাসে—
যাকাত যথাসময়ে আদায়
নিয়মিত সদকা
অসহায়দের ইফতার করানো
আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীর খোঁজ নেওয়া
দান শুধু অর্থ নয়—
হাসিমুখে কথা বলা
কাউকে সাহায্য করা
ক্ষমা করে দেওয়া

৬. শেষ দশকের বিশেষ গুরুত্ব

রমজানের শেষ দশক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ সময় রয়েছে লাইলাতুল কদর, যা হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। তাই শেষ দশকে—

ইবাদত বৃদ্ধি
ইতিকাফ করা (সম্ভব হলে)
বেশি বেশি দোয়া করা