বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনকে ঘিরে হাজারো জেলে ও বাওয়ালির জীবন-জীবিকা। কিন্তু সম্প্রতি কাঁকড়া আহরণে সরকারি নিষেধাজ্ঞা আরোপের ফলে চরম মানবিক সংকটে পড়েছেন উপকূলীয় এই বননির্ভর জনগোষ্ঠী। 

কাজ হারিয়ে অনেক পরিবার আজ অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছে।
সাতক্ষীরার শ্যামনগর, আশাশুনি ও কয়রা উপজেলার সুন্দরবনসংলগ্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, শত শত জেলে ও বাওয়ালি পরিবার কার্যত কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। যাদের দৈনন্দিন আয়ের একমাত্র উৎস ছিল সুন্দরবন থেকে কাঁকড়া সংগ্রহ, তারা এখন দিশেহারা

বিকল্প আয়ের সুযোগ না থাকায় অনেকের ঘরে দিনের পর দিন চুলা জ্বলছে না।
শ্যামনগরের মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের জেলে রহিম গাজী বলেন,
দুই সন্তান আর বৃদ্ধ মা-বাবাকে নিয়ে সংসার চালাই। কাঁকড়া ধরাই ছিল একমাত্র উপার্জন। নিষেধাজ্ঞার পর থেকে কাজ নেই, খাবার নেই। ধার করে কোনো রকমে দিন পার করছি।”
একই এলাকার বাওয়ালি রফিকুল ইসলাম জানান,

“নিষেধাজ্ঞা আমরা বুঝি, বন রক্ষা করা জরুরি। কিন্তু আমাদের তো বাঁচার দরকার আছে। সরকার যদি বিকল্প কাজ বা খাদ্য সহায়তা না দেয়, তাহলে পরিবার নিয়ে না খেয়ে মরতে হবে।”

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সামাজিক সংগঠনগুলোর দাবি, নিষেধাজ্ঞা আরোপের আগে জেলে-বাওয়ালিদের জন্য পুনর্বাসন ও বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা না করায় এই সংকট আরও তীব্র হয়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন শিশু, নারী ও বৃদ্ধরা।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, দ্রুত মানবিক সহায়তা, খাদ্য বিতরণ এবং বিকল্প কর্মসংস্থান কর্মসূচি চালু না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। পাশাপাশি তারা টেকসই বন সংরক্ষণ নীতির সঙ্গে বননির্ভর মানুষের জীবন-জীবিকার ভারসাম্য নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।

সুন্দরবন যেমন দেশের গর্ব, তেমনি এই বননির্ভর মানুষগুলোও রাষ্ট্রের নাগরিক। বন রক্ষার পাশাপাশি তাদের বাঁচার অধিকার নিশ্চিত করাই এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।