শ্যামনগরের ফিলিং স্টেশনগুলোতে অনিয়মের অভিযোগ 

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেল সংগ্রহকে কেন্দ্র করে অনিয়ম বিশৃঙ্খলা ও প্রভাবশালী চক্রের দৌরাত্ম্যের অভিযোগ ক্রমেই প্রকট হয়ে উঠছে।


সরেজমিনে দেখা গেছে নিয়ম উপেক্ষা করে কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি দলবল নিয়ে একাধিক মোটরসাইকেলে তেল সংগ্রহ করছেন। অন্যদিকে সাধারণ মানুষ ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও জ্বালানি পাচ্ছেন না।


স্থানীয়দের অভিযোগ রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে অসাধু সিন্ডিকেট ফিলিং স্টেশনগুলোর কার্যক্রমে অঘোষিত নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে। তারা সিরিয়াল ভেঙে জ্বালানি সংগ্রহ করে পরে উচ্চমূল্যে বিক্রি করছে ফলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়ছে।


মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের ডেলমা ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায় কয়েক শত মোটরসাইকেল ও বিভিন্ন যানবাহনের দীর্ঘ সারি। অনেকেই আগের দিন থেকে লাইনে অবস্থান করেও তেল পাচ্ছেন না।


অভিযোগ উঠেছে  কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি একেক জন একসঙ্গে ২০-৩০টি মোটরসাইকেল নিয়ে স্টেশনে প্রবেশ করে লাইনের তোয়াক্কা না করেই জ্বালানি সংগ্রহ করছেন। এতে লাইনে অপেক্ষমাণ সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।


প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান সিরিয়াল ভেঙে তেল নেওয়ার প্রতিবাদ করলেই হুমকি ও লাঞ্ছনার শিকার হতে হচ্ছে। এক পর্যায়ে এক প্রতিবাদকারীকে মারধর ও ইট-পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনাও ঘটে যার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।


এছাড়া কেউ এসব অনিয়মের ভিডিও ধারণ করতে গেলে তার মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে ভিডিও মুছে ফেলার অভিযোগও উঠেছে।

এ ঘটনায় ক্ষোভে এক ব্যক্তি নিজের মোটরসাইকেল ভাঙচুর করেছেন বলেও 
স্থানীয়রা জানান।

শুধু একটি স্টেশন নয় বংশীপুর এলাকার আশা ফিলিং স্টেশন, লস্কর ফিলিং স্টেশন এবং খানপুর এলাকার শ্যামনগর ফিলিং স্টেশনসহ বিভিন্ন স্থানে একই ধরনের অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয়দের মতে প্রায় সব স্টেশনেই সক্রিয় রয়েছে শক্তিশালী সিন্ডিকেট।


ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল চালক শহিদুল ইসলাম বলেন

একদিন আগে সিরিয়ালে দাঁড়িয়ে থেকেও তেল পাইনি। অথচ কিছু লোক গায়ের জোরে এসে একাধিক মোটরসাইকেলে তেল নিয়ে যাচ্ছে।


ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নের মোটরসাইকেল চালক হারুন অর রশিদ বলেন

সিরিয়াল ভেঙে তেল নিয়ে পরে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায় কালো বাজারে বিক্রি করা হচ্ছে।


আরেক ভুক্তভোগী রাশিদুল ইসলাম বলেন

এখানে ভদ্রভাবে লাইনে দাঁড়িয়ে তেল নেওয়া সম্ভব নয়। জোর যার তেল তার। এই অবস্থাই চলছে।


স্থানীয়দের দাবি জ্বালানি সংকটকে পুঁজি করে একটি সিন্ডিকেট প্রভাব খাটিয়ে তেল সংগ্রহ করে পরে তা কয়েকগুণ বেশি দামে বিক্রি করছে।


এ বিষয়ে শ্যামনগর উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক সোলাইমান কবির বলেন

আমাদের দলের নেতাকর্মীদের শৃঙ্খলা মেনে তেল নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দলীয় পরিচয়ে কেউ লাইনের বাইরে গিয়ে তেল নিলে সেটি প্রশাসনের ব্যর্থতা এর দায় দল নেবে না।


বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর শ্যামনগর 

উপজেলা আমির মাওলানা আব্দুর রহমান বলেন

এ ধরনের অনিয়ম বন্ধে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।  আমাদের দলের কেউ জড়িত থাকলে প্রমাণিত হলে  সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


আশা ফিলিং স্টেশনের এক কর্মকর্তা বলেন

চাহিদা বেশি থাকায় চাপ তৈরি হচ্ছে। আমরা নিয়ম মেনেই তেল দেওয়ার চেষ্টা করছি।


ডেলমা ফিলিং স্টেশনের এক দায়িত্বশীল ব্যক্তি বলেন

সিরিয়াল মেনে তেল দেওয়ার নির্দেশ রয়েছে। কিন্তু রাজনৈতিক পরিচয়ে কিছু ব্যক্তি নিয়ম ভেঙে তেল নিচ্ছে। এতে আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।


এ বিষয়ে শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামসুজ্জাহান কনক কে মোবাইল ফোনে বারবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি