ভারতের বিভিন্ন প্রদেশে ঈদুল আজহার নামাজের প্রস্তুতি এবার উৎসবের চেয়ে উদ্বেগেই বেশি লক্ষ্য করা গেছে। মসজিদ কমিটি মুসল্লিদের সতর্ক করেছে— মসজিদের বাইরে ভিড় না করতে, কোনো বিতর্কে না জড়াতে এবং পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে প্রতিক্রিয়া না দেখাতে। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকেও প্রকাশ্যে নামাজ না পড়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
২০১৪ সালে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকে রাস্তা বা খোলা জায়গায় মুসলিমদের নামাজ নিয়ে বিধিনিষেধ বেড়েছে। সম্প্রতি ভিএইচপি সারা দেশে রাস্তার ওপর নামাজ নিষিদ্ধের দাবি জানায়। বিভিন্ন প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীরা মুসল্লিদের ‘শিফটে’ নামাজ পড়ার পরামর্শ দেন।
মুসলিমদের অভিযোগ, অধিকাংশ এলাকায় মসজিদ ও ঈদগাহে সবার জায়গা না হওয়ায় সাময়িকভাবে রাস্তার কিছু অংশ ব্যবহার করা ছাড়া উপায় থাকে না। তবে এখন খোলা জায়গায় নামাজ পড়াকে ঘিরে মামলা, পুলিশি হয়রানি, এমনকি বাড়িঘর ভাঙার অভিযোগও উঠছে। ফলে মানুষের মধ্যে ভয় ও অনিশ্চয়তা বাড়ছে।
বিভিন্ন মসজিদ কমিটিগুলো এবার ছোট ছোট জামাতের আয়োজন করছে। মুসল্লিদের দ্রুত নামাজ শেষ করে সরে যেতে বলা হচ্ছে। স্বেচ্ছাসেবকদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে যেন কেউ রাস্তায় অবস্থান না করেন।
অনেক মুসলিমের দাবি, ঈদের আনন্দের বদলে এখন উদ্বেগই বেশি কাজ করে— পুলিশি নজরদারি, ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া বা অনলাইনে টার্গেট হওয়ার ভয় রয়েছে। একই সঙ্গে কোরবানির বর্জ্য ব্যবস্থাপনাতেও বাড়তি নজরদারি চালানো হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রকাশ্যে নামাজ নিয়ে এই বিতর্ক আসলে ভারতের জনপরিসরে মুসলিমদের অবস্থান ও দৃশ্যমানতা নিয়ে বৃহত্তর পরিবর্তনের প্রতিফলন। সরকারের দাবি, এসব পদক্ষেপ জনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য নেওয়া হচ্ছে। তবে সমালোচকদের অভিযোগ, মুসলিমদের ক্ষেত্রে কঠোরতা দেখানো হলেও বড় হিন্দু ধর্মীয় আয়োজনগুলোতে প্রশাসনিক সহায়তা দেওয়া হয়, যা বৈষম্যের প্রশ্ন তুলছে।