ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোর-৪ (অভয়নগর, বাঘারপাড়া ও বসুন্দিয়া ইউনিয়ন) আসনের প্রার্থিতা ফিরে পেতে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আপিল করেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও কৃষক দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার টিএস আইয়ূব। 

বুধবার (৭ জানুয়ারী) তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে আপিল আবেদন জমা দেন।
এ সময় টিএস আইয়ূব তার প্রার্থিতা বৈধ প্রমাণে শেষ পর্যন্ত আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।

এর আগে গত ২ জানুয়ারি যশোরের জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান ঋণখেলাপির অভিযোগে টিএস আইয়ূবের মনোনয়নপত্র বাতিল করেন। ঢাকা ব্যাংকের পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে ঋণ সংক্রান্ত জটিলতার উল্লেখ করে একটি চিঠি পাঠানো হয়, যার ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

আপিল প্রসঙ্গে টিএস আইয়ূব বলেন: “ব্যাংক ঋণ সংক্রান্ত যে জটিলতার কথা বলা হয়েছিল, সেটি আমি ইতোমধ্যে সমাধান করেছি। তা সত্ত্বেও মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়, যা আমার কাছে অযৌক্তিক মনে হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন: “আমি যশোর-৪ আসন থেকে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলাম। রিটার্নিং কর্মকর্তা ব্যাংক ঋণের অজুহাতে সেটি বাতিল করেন। তবে সেই সমস্যার সমাধান করে গত ৭ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশনে আপিল করেছি। আমি আশাবাদী, শুনানিতে আমার প্রার্থিতা পুনর্বহাল হবে। এই লক্ষ্যে আইনি লড়াই অব্যাহত থাকবে।”

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, আগামী ১২ জানুয়ারি টিএস আইয়ূবের আপিল আবেদনের ওপর শুনানির দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।

ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, ১২ থেকে ১৮ জানুয়ারি আপিল শুনানি, ২০ জানুয়ারি প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন, ২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দ এবং ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
উল্লেখ্য, যশোর-৪ আসনে টিএস আইয়ূবের পাশাপাশি তার ছেলে স্বতন্ত্র প্রার্থী ফারহান সাজিদের ভোটার তথ্যের অসংগতি থাকায় মনোনয়ন বাতিল হয়। একই সঙ্গে জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবুর মনোনয়নও দলীয় ফরম যথাযথভাবে জমা না দেওয়ায় বাতিল করা হয়। বর্তমানে এই আসনে বিএনপির বৈধ বিকল্প প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন বহাল রয়েছে মতিয়ার রহমান ফারাজীর।