প্রায় এক দশক আগে শিবপুর উপজেলায় সংঘটিত কিশোর রায়হান হত্যাকাণ্ডের ঘটনার বিচারিক প্রক্রিয়া এখনও সম্পন্ন হয়নি। শিবপুর মডেল থানায় দায়েরকৃত মামলা নম্বর ৩৪/২৮/১৪ ইং দীর্ঘদিন ধরে চলমান থাকলেও, তদন্তে অগ্রগতি না হওয়া এবং গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীদের বক্তব্য না পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে মামলার প্রকৃত সত্য উদঘাটন নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে উদ্বেগ ও নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন রায়হানের আপন বড় ভাই আতাউর রহমান সোহেল মিয়া তার মামাতো ভাইয়ের বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। সেখানে রায়হানের সঙ্গে কথাকাটাকাটির ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। এর পরপরই রায়হান নিখোঁজ হন এবং কিছু সময় পর শিবপুর থানার আওতাধীন একটি নদী থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

একাধিক স্থানীয় সূত্রের দাবি, ঘটনাটি দুর্ঘটনা নয় বরং পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হতে পারে—তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো আদালত চূড়ান্ত রায় দেননি। মামলার দীর্ঘসূত্রতা ও তদন্তের ধীরগতির কারণে প্রকৃত ঘটনার পরিপ্রেক্ষিত স্পষ্ট হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

সাক্ষীদের নীরবতা ও বক্তব্য
মামলার এক গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী কামরুল হাসান ভূঁইয়া সাংবাদিকদের বলেন,
“আমি মামলার বিষয়বস্তু সম্পর্কে বিস্তারিত অবগত নই। কে বা কারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত, সে বিষয়ে আমার কোনো নিশ্চিত তথ্য নেই। এছাড়া সাক্ষ্য দিতে গেলে বিভিন্ন ধরনের চাপ ও ভয়ভীতির আশঙ্কা রয়েছে।”
এ বিষয়ে স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তি আলহাজ্ব মাসুদুল হক মাস্টার–এর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

মামলার অভিযোগের কেন্দ্রে থাকা আতাউর রহমান সোহেল–এর সঙ্গেও একাধিকবার সরাসরি ও মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়, তবে তিনি এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি।
সাক্ষীদের বক্তব্য না দেওয়া বা নীরব অবস্থান মামলার তদন্তকে আরও জটিল করে তুলছে বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

সম্পত্তি লেনদেন ঘিরে প্রশ্ন
স্থানীয়দের একাংশের দাবি, রায়হানের পরিবারে মা ও তিন বোনের আইনগত অংশীদারিত্ব থাকা সত্ত্বেও পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে লেনদেন হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, মামলার সাক্ষী কামরুল হাসান ভূঁইয়া উক্ত সম্পত্তির একটি অংশ ক্রয় করে সেখানে বাড়ি নির্মাণ করেছেন।

এই সম্পত্তি লেনদেনের সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের কোনো প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্পর্ক আছে কি না—তা এখনো তদন্তসাপেক্ষ। তবে বিষয়টি এলাকায় নানা আলোচনা ও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

স্বজনের বক্তব্য
নিহতের স্বজন সুলতান মাহমুদ জুয়েল সাংবাদিকদের বলেন,
“আমি ন্যায়বিচারের দাবিতেই প্রতিবাদ করেছি। মামলার প্রকৃত সত্য উদঘাটন না হলে আমাদের পরিবারের নিরাপত্তা ও ন্যায়ের নিশ্চয়তা প্রশ্নের মুখে থাকবে।”
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে মূল অভিযুক্তরা শনাক্ত না হওয়া এবং সাক্ষীদের বক্তব্য না দেওয়ার কারণে বিচার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। পুনঃতদন্ত ও সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হলে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

এলাকাবাসীর দাবি
দীর্ঘ এক যুগ ধরে মামলা ঝুলে থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। তাদের দাবি—
মামলার পুনঃতদন্ত করা হোক
সাক্ষীদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা হোক
প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনা হোক
শিবপুর মডেল থানার এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান,
“মামলাটি এখনো চলমান রয়েছে। আদালতের নির্দেশনা বা নতুন কোনো তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেলে তদন্ত পুনঃপর্যালোচনার সুযোগ রয়েছে।”


দীর্ঘস্থায়ী নীরবতা, সাক্ষ্য জটিলতা ও পারিবারিক সম্পত্তি সংক্রান্ত আলোচনার প্রেক্ষাপটে রায়হান হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি আরও জোরালো হচ্ছে।