ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে যশোর-৫ (মনিরামপুর) আসনে রাজনৈতিক বাতাস গরম হয়ে উঠেছে। আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচারণার প্রথম দিনেই মনিরামপুরে জনতার উপস্থিতি জনদুর্ভোগের কারণ হয়ে দেখা দাঁড়িয়েছে
। যানচলাচল বন্ধ হওয়ায় নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত দুই প্রার্থীর প্রতিনিধিকে জরিমানা করেছে।
নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী বৃহস্পতিবার থেকে আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু হয়। প্রতীক বরাদ্দের সঙ্গে সঙ্গে ৬ প্রার্থী মাঠে নেমে নানা কৌশলে জনমত সংগ্রহ শুরু করেন। এর মধ্যে মনিরামপুর পৌর শহরে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী ও বিএনপি বহিষ্কৃত সতন্ত্র প্রার্থী কলস প্রতীকের প্রার্থী এম ইকবাল হোসেনের প্রথম দিনের প্রচার মিছিল বের করে।
বিকাল থেকেই পৌর শহরের বিভিন্ন এলাকায় দুই দলের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী জড়ো হতে শুরু করেন। পরবর্তীতে পরপর দুই পক্ষের মিছিল বের হলে পৌর শহরের প্রধান সড়কগুলোতে তীব্র যানজট তৈরি হয়। এতে সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী ও রোগীবাহী যানসহ পথচারীরা চরম ভোগান্তির শিকার হন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
মনিরামপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহির দায়ান আমিনের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে। আদালত অনুমতির শর্ত ভঙ্গ, অতিরিক্ত লোকসমাগম, একাধিক মিছিল এবং জনসাধারণের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টির বিষয়টি বিবেচনা করে কলস প্রতীকের এক প্রতিনিধিকে সর্বোচ্চ এক লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকা, এবং দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের এক প্রতিনিধিকে আশি হাজার টাকা জরিমানা করেন।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের সূত্রে জানা যায়, নির্বাচনী প্রচারণার সময় যান চলাচল ও জনজীবনে বিঘ্ন ঘটানোর অপরাধে নির্বাচনী আচরণবিধি ২০২৫-এর ৬(ঙ) ধারা লঙ্ঘন এবং ২৭(ক) ধারা অনুযায়ী জরিমানা করা হয়েছে।
অন্যদিকে প্রার্থীদের দাবি পূর্ব অনুমতি নিয়ে নিয়ম অনুযায়ীই প্রচারণা চালিয়েছেন তাঁরা। আচরণবিধি লঙ্ঘন কোন ঘটনা ঘটেনি।
সহকারি রিটানিং কর্মকর্তা জনাব সম্রাট হোসেন জানিয়েছে, যশোর-৫ আসনে সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে আচরণবিধি কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হবে। নির্বাচনী প্রচারণার শুরুতেই এই ধরনের ঘটনায় মনিরামপুরের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।