জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দুটি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে রায় ঘোষণা করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল সোমবার দুপুর আড়াইটার দিকে এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন।
আদালতের রায়ে প্রথম অভিযোগে শেখ হাসিনাকে আমৃত্যু কারাদণ্ড এবং দ্বিতীয় অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। গণহত্যার দায়ে সরকারের সর্বোচ্চ পদধারী ব্যক্তির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বাংলাদেশের ইতিহাসে এটিই প্রথম বিচারের রায়।
রায় ঘোষণার কার্যক্রম বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ বেসরকারি টেলিভিশনগুলোতে সরাসরি সম্প্রচারিত হয়।
৬ ভাগে বিভক্ত ৪৫৩ পৃষ্ঠার এই রায়ের সংক্ষিপ্ত সার অংশ বিচারক প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে পড়েন, যা দুপুর বারোটা চৌত্রিশ মিনিট থেকে শুরু হয়। বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার ছাড়াও ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য ছিলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার তদন্ত প্রতিবেদনের মূল অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট আন্দোলন চলাকালে হাসিনা বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে ব্যাপক এবং পদ্ধতিগত দমনপীড়ন চালানোর সরাসরি নির্দেশ দিয়েছিলেন যা গণহত্যা, খুন এবং ভয়াবহ নির্যাতনের শামিল।
এই নির্দেশের ফলে দেড় হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত এবং পঁচিশ হাজারের বেশি আহত হয়েছেন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।এই মামলায় প্রসিকিউশন মোট আট হাজার সাতশো সাতচল্লিশ পৃষ্ঠার বিশাল অভিযোগ দাখিল করেছিল, যার মধ্যে দুই হাজারেরও বেশি পৃষ্ঠার তথ্যসূত্র এবং চার হাজারেরও বেশি পৃষ্ঠার দালিলিক প্রমাণাদি ছিল। আসামিদের মধ্যে শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল পলাতক রয়েছেন এবং বর্তমানে তারা ভারতের আশ্রয় রয়েছেন।
মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া একমাত্র আসামি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন রাজসাক্ষী হয়েছেন এবং নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ স্বীকার করেছেন।
এদিকে, হাসিনার এই ঐতিহাসিক রায়কে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সারাদেশে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের কথিত লকডাউন ও শাটডাউনের নামে নাশকতা প্রতিরোধে ঢাকা, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর ও ফরিদপুরে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে।
এছাড়া সুপ্রিম কোর্টের অনুরোধে ট্রাইব্যুনাল এলাকায় সেনাবাহিনীর সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করছেন।
গৌরব সাহা
স্টাফ রিপোর্টার