শিক্ষার আলোয় তিন দশকের দীপ্ত পথচলা
খুলনা বিভাগের শ্রেষ্ঠ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এএসএম জিল্লুর রশীদের গৌরবময় স্বীকৃতি
নিষ্ঠা, দক্ষতা ও দূরদর্শী নেতৃত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ ২০২৬ উপলক্ষে যশোর জেলা পর্যায়ে পঞ্চমবার এবং খুলনা বিভাগীয় পর্যায়ে দ্বিতীয়বার শ্রেষ্ঠ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার নির্বাচিত হয়েছেন জনাব এএসএম জিল্লুর রশীদ।
শিক্ষাক্ষেত্রে তার দীর্ঘদিনের অবদান ও উদ্ভাবনী কার্যক্রমেরই প্রতিফলন এই মর্যাদাপূর্ণ অর্জন।
তিনি যশোর জেলা পর্যায়ে এর আগে ২০১৯, ২০২২, ২০২৩ ও ২০২৪ সালে এবং খুলনা বিভাগীয় পর্যায়ে ২০২৪ সালে একই সম্মাননায় ভূষিত হন। চলতি বছরে পুনরায় এই স্বীকৃতি প্রমাণ করে—শিক্ষা প্রশাসনে তিনি এক অনুকরণীয় ও আস্থার নাম।
১৯৯৪ সাল থেকে দেশের বিভিন্ন উপজেলায় দায়িত্ব পালনকালে এএসএম জিল্লুর রশীদ শুধু একজন প্রশাসক নন, বরং একজন প্রকৃত শিক্ষানুরাগী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। সরকারি নিয়মিত দায়িত্বের পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নে গ্রহণ করেছেন সময়োপযোগী ও কার্যকর নানা উদ্যোগ। ফলে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কাছে তিনি হয়ে উঠেছেন আস্থাভাজন ও শ্রদ্ধেয় এক ব্যক্তিত্ব।
তার কর্মকালীন সময়ে সংশ্লিষ্ট উপজেলাগুলোতে শিক্ষা ব্যবস্থায় এসেছে ইতিবাচক পরিবর্তন। পাঠদানের মান উন্নয়ন, শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং শিক্ষার্থীদের ফলাফল উন্নয়নে তার অবদান প্রশংসিত হয়েছে সর্বমহলে।
শুধু পাঠ্য শিক্ষায় সীমাবদ্ধ না থেকে ক্রীড়া, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও বিজ্ঞান শিক্ষার চর্চা বিস্তারে তিনি রেখেছেন অগ্রণী ভূমিকা। সহশিক্ষা কার্যক্রমকে শিক্ষার মূলধারার সঙ্গে সম্পৃক্ত করার ক্ষেত্রে তার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন ছিল দৃষ্টান্তমূলক, যা শিক্ষাঙ্গনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
শিক্ষার প্রতি গভীর ভালোবাসা থেকেই নিজ জন্মস্থানে নিজ উদ্যোগ ও অর্থায়নে তিনি প্রতিষ্ঠা করেছেন “আমিনা কেরামত আলী বিশ্বাস ড্রিম স্কুল”—বাবা-মায়ের নামে গড়ে তোলা একটি স্বপ্নের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। আধুনিক ও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে সেখানে তিনি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
দীর্ঘ প্রায় ৩১ বছরের বর্ণাঢ্য ও গৌরবময় কর্মজীবন শেষে আগামী ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে তিনি সরকারি চাকরি থেকে অবসর গ্রহণ করবেন। তবে সংশ্লিষ্ট মহলের অভিমত—চাকরি থেকে অবসর নিলেও শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নে তার চিন্তা, কর্ম ও অনুপ্রেরণা প্রজন্মের পর প্রজন্মকে পথ দেখাবে।
শিক্ষা অঙ্গনে এএসএম জিল্লুর রশীদের এই অর্জন শুধু যশোর নয়, বরং পুরো খুলনা বিভাগের জন্য এক গর্বের অধ্যায় হয়ে থাকবে।