যশোর-৫ (মণিরামপুর) আসনে আ’লীগ ও অমুসলিম ভোটারদের নিজের দিকে টানতে প্রার্থীরা নানা কৌশল অবলম্বন করছে। কে কতটা সফল তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে ১২ ফেব্রুয়ারি ২৬ পর্যন্ত। প্রচার প্রচারণার তথ্যে এ আসনে তৃমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস পাওয়া গেছে।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মণিরামপুর আসনে জমে উঠেছে নির্বাচনী লড়াই। আওয়ামী লীগ সরাসরি নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায় দলটির ঐতিহ্যগত ভোট ব্যাংককে ঘিরেই এখন প্রতিদন্দ্বী প্রার্থীদের কৌশল ও প্রচারণা আবর্তিত হচ্ছে। স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও ভোটারদের মতে, সংখ্যালঘু ও আওয়ামী লীগের সাধারণ ভোটারদের যে প্রার্থী নিজের পক্ষে যত টানতে পারবেন তার জয় ততটা নিশ্চিত হবে।
উপজেলা নির্বাচন অফিস ওয়েবসাইট সূত্রে জানা গেছে ৮৯ যশোর-৫ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা প্রায় ৩ লাখ ৭৪ হাজার ২৫২ জন। মোট ভোটারের মধ্যে ১ লাখ ৮৮ হাজার ৪৮০ জন, মহিলা ভোটার ১ লাখ ৮৫ হাজার ৭৬৮ জন। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৪ জন। ১২৮ কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
নির্বাচন অফিস সূত্রে জানাগেছে এ আসনে অমুসলিম ভোটার রয়েছে প্রায় ৭৪ হাজার ৫৩৬ জন।
বিগত দিনে অমুসলিম ভোটারদের আওয়ামী লীগের ভোট ব্যাংক হিসেবে বিবেচনা করা হতো। আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশগ্রহণের অনুমতি না পাওয়ায় সেই ভোটারদের নিজেদের পক্ষে টানতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা।
এছাড়া নারী ভোটার ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সমর্থকরাও এবারের নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। ফলে নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারণে এই দুই শ্রেণির ভোটারদের ভোটে নির্ধারিত হবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
এবারের নির্বাচনে যশোর-৫ আসনে ৬ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
সতন্ত্র কলস প্রতীকে এম ইকবাল হোসেন, জামায়াত দাড়িপাল্লা প্রতিকে গাজী এনামুল হক, নিবন্ধনহীন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম ধানের শীষ প্রতীকে রশীদ আহমাদ, শাসনতন্ত্র আন্দোলন
হাতপাখা প্রতীকে জয়নাল আবেদীন টিপু, জাতীয় পার্টি
লাঙ্গল প্রতীকে এম এ হালিম, সতন্ত্র ফুটবল প্রতীকে ব্যারিস্টার কামরুজ্জামান।
অতীত নির্বাচনের ইতিহাস
১৯৭৩ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত অধিকাংশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে আওয়ামী লীগ ঘরানার প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। প্রথম ১৯৭৯ সালে বিএনপির আফসার আহমেদ সিদ্দিকী ১৯৮৬ জাতীয় পার্টি থেকে মুফতি মুহাম্মদ ওয়াক্কাস ২০০১ সালে চারদলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে মুফতি মুহাম্মদ ওয়াক্কাস নির্বাচিত হন।
এছাড়া আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী নেতা স্বপন ভট্টাচার্য ২০১৪ সালে এবং আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী এস এম ইয়াকুব আলী ২০২৪ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী হন।
এ আসন থেকে বিজয়ী তালিকায় আরো রয়েছেন আওয়ামী লীগের নেতা পিযুষ কান্তি ভট্টাচার্য ও এডভোকেট টিপু সুলতানের নাম। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কে হবেন এ আসনের সাংসদ তা দেখার অপেক্ষায় মনিরামপুরবাসী।