যশোরের মনিরামপুর উপজেলার ১৬ নং নেহালপুর ইউনিয়ন পরিষদের সচিব (প্রশাসনিক কর্মকর্তা) মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রকল্পে নয়ছয় করে প্রায় অর্ধকোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।
বৃহস্পতিবার ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এক গণসভায় ইউপি সদস্য নজরুল ইসলাম, আলেয়া বেগম, লাকী বেগম ও মুজিবর রহমান প্রকাশ্যে এ অভিযোগ উত্থাপন করেন। তারা দাবি করেন, সচিব মিজানুর রহমান যোগদানের পর থেকেই বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পে অনিয়ম করে আসছেন এবং একক সিদ্ধান্তে কার্যক্রম পরিচালনা করে পরিষদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছেন।
অভিযোগে জানানো হয় ইউনিয়ন পরিষদের নিজস্ব আয়—ট্যাক্স আদায়, ট্রেড লাইসেন্স ইস্যু, ওয়ারিশ সনদ প্রদান ও গ্রাম আদালতের মামলার ফি বাবদ প্রায় ৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। এছাড়া ভুয়া প্রকল্প দেখিয়ে আরও প্রায় ১৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ রয়েছে। এসব অর্থের কোনো সঠিক হিসাব পরিষদে উপস্থাপন করা হয়নি বলে দাবি ইউপি সদস্যদের।
ইউপি সদস্যরা আরও অভিযোগ করেন, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সময় সরকারি বরাদ্দ গোপন রেখে সচিব এককভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করেন। গত অক্টোবর মাসে ভিজিডি চাল বিতরণের সময় প্রতিটি কার্ডধারীর কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে উৎকোচ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে।
তাদের দাবি, ভিডাব্লিউবি, ভিজিএফ, জিআর চাল, ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার বিশেষ বরাদ্দের তালিকা প্রণয়ন, উত্তোলন ও বিতরণে ইউপি সদস্যদের অবহিত করা হয় না। একইভাবে বয়স্ক, বিধবা, প্রতিবন্ধী, মাতৃত্বকালীন ভাতা ও মা-শিশু সহায়তা কর্মসূচির কার্ড দেওয়ার কথা বলে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে কয়েক লাখ টাকা পকেটে ভরেছে।
এছাড়া জন্ম নিবন্ধনের ক্ষেত্রে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত আদায় এবং মাতৃত্বকালীন ভাতা কার্ড জনপ্রতি ৬ হাজার টাকায় বিক্রির অভিযোগো রয়েছে। ভিজিডির ৬০০ কার্ড থেকে কার্ডপ্রতি ১৫০ টাকা করে ৯০ হাজার টাকা নিজের পকেটস্থ করেছে।
আনিত অভিযোগের ব্যাপারে সচিব মিজানুর রহমানের বক্তব্য জানার জন্য ইউনিয়ন পরিষদে গেলে তাকে পাওয়া যায়নি।
এ ব্যাপারে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় ইউপি সদস্যরা। যথাযথ কর্তৃপক্ষ বিষয়টি আমলে নিয়ে উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণের প্রত্যাশা অভিযোগকারীদের।