যশোরের বাঘারপাড়ায় শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার প্রত্যয়ে অনুষ্ঠিত হলো পিস ফ্যাসিলিটেটর গ্রুপ (পিএফজি)-এর ত্রৈমাসিক সভা। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে Islamic Foundation Bangladesh-এর বাঘারপাড়া কার্যালয়ের সভাকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
FCDO-এর অর্থায়নে এবং The Hunger Project Bangladesh-এর এমআইপিএস প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত এ সভায় “সংঘাত নয়, শান্তি ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ি” স্লোগানকে সামনে রেখে রাজনৈতিক, ধর্মীয় ও জাতিগত সম্প্রীতি জোরদারে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব গৃহীত হয়।
সভায় নির্বাচন-পূর্ব, নির্বাচনকালীন ও নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতার নানা ঘটনা তুলে ধরেন নির্বাচনকালীন পর্যবেক্ষক অধ্যক্ষ মোস্তাক মোর্শেদ ও সাংবাদিক সাঈদ ইবনে হানিফ। তারা উপজেলার ধলগ্রাম ও বাসুয়াড়ি এলাকার সহিংস পরিস্থিতির বিবরণ দেন। এ ছাড়া ডা. শফিকুল ইসলাম সত্যনগরের জমি সংক্রান্ত সহিংসতার বিষয়টি উত্থাপন করলে পিস অ্যাম্বাসেডর মাসুদ আলম টিপু দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন।
সাংবাদিক মো. হুমাউন কবির নারকেলবাড়িয়া ইউনিয়নের দয়ারামপুর গ্রামে নির্বাচন-পরবর্তী সংঘর্ষ নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান। আলোচনায় প্রণয় কুমার বিশ্বাস গুজব প্রতিরোধে কার্যক্রম জোরদার এবং কুইক রেসপন্স কমিটিকে সক্রিয় করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি ৫ আগস্টের পর নির্যাতনের শিকার সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিষয়ে সংবেদনশীলভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
নজরুল ইসলাম গ্রুপিং ও লবিংয়ের কারণে সহিংসতা বাড়ছে উল্লেখ করে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে মতবিনিময় সভা আয়োজনের প্রস্তাব দেন। জাকের পাটির লিটন মোল্লা রাউন্ড টেবিল আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের কথা বলেন। এছাড়া প্রহল্লাদ কুমার মন্ডল, উত্তম কুমার মন্ডল, প্রদীপ বিশ্বাস, আমেনা (সাবেক মেম্বার), মনিরা ও দিলরুবা পারভিনসহ অন্যান্য বক্তারা সামাজিক উদ্যোগ জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন।
সভায় সভাপতিত্ব করেন পিস অ্যাম্বাসেডর মো. মাসুদ আলম টিপু এবং সঞ্চালনা করেন পিএফজির সমন্বয়কারী মো. ইকরামুল কবির মিঠু। উপস্থিত ছিলেন বিএনপি মহিলা দলের সভাপতি দিলরুবা পারভিন, পিস অ্যাম্বাসেডর ও পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি প্রণয় কুমার বিশ্বাস, মো. শফিকুল ইসলাম, মো. নজরুল ইসলাম, খ্রিষ্টান প্রতিনিধি উত্তম কুমার মন্ডল, আদিবাসী নেতা প্রহল্লাদ কুমার বাগচি, তহমিনা খাতুন, সাংবাদিক হুমাউন কবির, সাঈদ ইবনে হানিফ, প্রদীপ বিশ্বাস এবং দি হাঙ্গার প্রজেক্টের ফিল্ড কো-অর্ডিনেটর মো. আশরাফুজ্জামানসহ অন্যান্য সদস্যবৃন্দ।
সভাপতির বক্তব্যে মাসুদ আলম টিপু বলেন,
“পিএফজি সর্বদলীয় একটি প্ল্যাটফর্ম। এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সমাজের সব স্তরের মানুষের কাছে পৌঁছানো সম্ভব। তাই এখন থেকেই মাঠপর্যায়ে সম্প্রীতিমূলক কার্যক্রম জোরদার করতে হবে।”
তিনি ইউনিয়নভিত্তিক নেতৃত্ব পর্যায়ের ব্যক্তিদের নিয়ে পিস ইভেন্ট আয়োজন এবং সহিংসতা নিরসনে সক্রিয় ভূমিকা পালনের ঘোষণা দেন।
সভায় ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনার মধ্যে ADR Training, PAN Workshop, Harmony Festival, যশোরের বাঘারপাড়া ও কেশবপুর উপজেলার চার কমিটির সমন্বয় সভা এবং উপজেলা ভিত্তিক পিস ইভেন্ট আয়োজনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। একই সঙ্গে আগামী ৮ মার্চ ২০২৬ আন্তর্জাতিক নারী দিবস উদযাপনের প্রস্তুতিও চূড়ান্ত করা হয়।
বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন—সমন্বিত উদ্যোগ, সচেতনতা বৃদ্ধি ও পারস্পরিক সংলাপের মাধ্যমে বাঘারপাড়াকে একটি শান্তি, সহনশীলতা ও সম্প্রীতির মডেল উপজেলায় রূপান্তর করা সম্ভব।