ঘটনার বিবরণে জানা যায়,২০২৫-২৬ অর্থ বছরে সংসদ সদস্যের অনুদান বাবদ ১৮৩৫০০ টাকা বরাদ্দ পাওয়ার কথা। সেই অর্থ উত্তোলনের জন্য অগ্রিম তালিকা পাঠাতে হয়। পিএস সংসদ সদস্যকে জানালে , তিনি বলেন,২ উপজেলার সব ইউনিয়ন থেকে তুমি নাম দিয়ে দাও। পিএস বলেন,স্যার আপাতত কয়েক জনের নাম জমা দিয়ে অর্থ ছাড় করে নিই,পরে বিতরণ এর পর তালিকা আপডেট করা যাবে। এখানেই বাঁধে বিপত্তি। অনভিজ্ঞ পিএস তালিকার এক নম্বর ও ৮ নম্বরে এমপি কন্যার নাম দিয়ে জমা দেন। এক্ষেত্রে সংসদ সদস্যের অনুমতি ও নেননি। এমনকি সংসদ সদস্যের প্যাডে অগ্রিম স্বাক্ষর করা থাকায় তালিকা প্রস্তুত করার পর সেটি দেখারও সুযোগ পাননি নড়াইল জেলা জামায়াতের আমীর ও নড়াইল -২ আসনের সংসদ সদস্য আতাউর রহমান বাচ্চু।
এদিকে প্রকাশিত তালিকায় এমপি কন্যার নাম দেখে এলাকায় সরগরম। বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছেন জামায়াত দলীয় এই তরুণ সংসদ সদস্য।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সংসদ সদস্য বলছেন, তার ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) প্রাথমিক তালিকাটি করে জমা দিয়েছেন। তার পক্ষে তালিকাটি দেখার সুযোগ হয়নি।
অনুদান মঞ্জুর করে জাতীয় সংসদ সচিবালয় থেকে ১৮ জুন ইস্যু করা সেই পত্রের ছবি সামাজিক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পাড়ায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়েছে।
পত্রটির বরাতে জানা যায়, সংসদ সদস্য মো. আতাউর রহমান-এর অনুকূলে নিজের কর্তৃত্বে বণ্টনের জন্যে ২০২৫-২০২৬ অর্থ বৎসরে (১৭-০২-২০২৬ থেকে ৩০-০৬-২০২৬ পর্যন্ত) ঐচ্ছিক তহবিলের জন্য এক লাখ তিরাশি হাজার পাঁচশত টাকা বরাদ্দ পেয়েছেন।
সেই বরাদ্দের টাকা সংসদ সদস্যের অভিপ্রায় জানানো ব্যক্তিদের অনুকূলে ব্যয়ের মঞ্জুরি দেওয়া হয়েছে পত্রে। সেখান উল্লেখ করা তালিকায় সদর উপজেলায় ১০ জনের বিপরীতে ৮০ হাজার টাকা ও লোহাগড়া উপজেলায় ১১ জনের নামে ১ লাখ ৩ হাজার ৫০০ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
সদর উপজেলার তালিকায় হবোখালী ইউনিয়নের ৯ জন ও আউড়িয়া ইউনিয়নের একজনের নাম রয়েছে। তার ১ নম্বরে হবোখালী গ্রামের ফাইজা (বাবা মো. বাচ্চু) এবং ৮ নম্বরে ফাইজা (বাবা মো. আতাউর) এর নাম আছে। তাদের বিপরীতে ১০ হাজার টাকা করে অনুদান লেখা রয়েছে।
নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য আতাউর রহমান বাচ্চুর মেয়ের নামও ফাইজা।
এ বিষয়ে সংসদ সদস্য আতাউর রহমান বাচ্চু বলেন, একজন সংসদ সদস্য জনকল্যাণমূলক কাজের জন্য অর্থবছরে ৫ লাখ টাকা ঐচ্ছিক অনুদান তহবিল পেয়ে থাকেন।
“আমি যেদিন শপথ নিয়েছি সেদিন থেকে এই অর্থবছরে হিসাব করলে নড়াইল-২ আসনে ১ লাখ ৮৩ হাজার ৫০০ টাকা পেয়েছি। তবে সেই টাকা নেয়ার জন্য সংসদ সচিবালয়ে নামের তালিকা আগে জমা দেয়া লাগে।”
সংসদ সদস্য বলেন, “আমি এলাকায় ব্যস্ত থাকার মধ্যে পিএস ফোন দিয়ে জানায় আজকের দিনের মধ্যে নামের তালিকাসহ ডিও জমা দিতে হবে। আমি তাকে বললাম- তুমি সব ইউনিয়ন থেকে তালিকা সংগ্রহ করে জমা দাও।
“সে বলল, অফিস থেকে বলেছে এখন কিছু পরিচিত নাম দিয়ে এটা তুলে নিতে হবে, পরে বিভিন্ন সময়ে বিতরণ করে প্রকৃত তালিকা আপনারা সংরক্ষণ করতে পারবেন।”
আতাউর রহমান বলেন, এমন পরিস্থিতিতে পিএসের কাছে থাকা স্বাক্ষর করা প্যাডে এই তালিকাটা অফিসে জমা দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, “তালিকায় কাদের নাম দিয়েছে আমি দেখারও সুযোগ পায়নি। এমনকি কি সেই টাকাটা এখনও আমি হাতেও পাইনি।”
তিনি আরও বলেন, “কিন্তু এখন দেখছি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেক কিছু লেখা। টাকা হাতে পাওয়ার পর এই অর্থবছর শেষ হলে অন্যান্য অনুদানের মতো এই টাকার প্রকৃত তালিকাও জনগণ জানতে পারবে, ইনশাআল্লাহ।”
জামায়াতের এই সংসদ সদস্য বলেন, “এইভাবে যারা আমাকে হেয়-প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করছেন তাদের জন্য আমার অফুরন্ত দোয়া। নির্বাচনের পূর্বেও আপনাদের অনেকের অপপ্রচারের কারণে মহান আল্লাহ আমার পরিচিত অনেক বাড়িয়ে দিয়েছিলেন।”
এছাড়া “জনগণের হকের একটি পয়সাও আমি বা আমার পরিবারের কেউ আগামী পাঁচ বছরে ছুঁয়ে দেখব না” বলেও অঙ্গীকার করেন সংসদ সদস্য।
তিনি আরও বলেন, “আজকের (শনিবার) মধ্য একটি তালিকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট পাঠানো হবে, সেই তালিকা অনুযায়ী অনুদানের টাকা দেয়া হবে।”
এ বিষয়ে জানতে সংসদ সদস্যের পিএস আবু সালেহ গোফরানের একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ধরেননি।
ফাহিম মুনতাসির
স্টাফ রিপোর্টার