নরসিংদীর পলাশ উপজেলার পারুলিয়া মোড় এলাকায় সড়কে চলাচলকারী যানবাহন থেকে নিয়মিত চাঁদা তোলার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সিএনজি চালকদের কাছ থেকে মাসিক ভিত্তিতে ৫০০ টাকা এবং অটোসহ অন্যান্য ছোট যানবাহন থেকে “সিরিয়াল” বা লাইনের নাম করে প্রতি গাড়ি থেকে ২০ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে।
একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, পারুলিয়া মোড় সংলগ্ন এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন প্রায় দেড় শতাধিক যানবাহন চলাচল করে। অভিযোগ রয়েছে, অনেক সিএনজির কাগজপত্র সঠিক না থাকায় চালকদের কাছ থেকে নেওয়া অর্থের একটি অংশ গোপনে একাধিক স্থানে বণ্টন করা হয়।
স্থানীয়দের একটি অংশ জানান, কখনো কখনো মসজিদের নাম করেও টাকা তোলা হয়। তবে সেই অর্থ মসজিদের তহবিলে জমা দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। একাধিক মুসল্লি দাবি করেন, মসজিদের উন্নয়ন বা তহবিলের নামে তোলা অর্থের কোনো হিসাব তারা দেখেননি।
এদিকে গত ৪ মার্চ বুধবার চাঁদা তোলার প্রতিবাদ করায় ইসমাইল নামে এক ব্যক্তিকে মারধরের অভিযোগ ওঠে সুলেমান মিধা ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী ইসমাইল জানান, তিনি জানতে চেয়েছিলেন কার নির্দেশে এবং কী কারণে টাকা তোলা হচ্ছে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে অভিযুক্তরা তাকে মারধর করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ঘটনার বিষয়ে পারুলিয়া বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি বাজার কমিটির সভাপতি হুমায়ুনের কাছে জানানো হয়েছে। তবে এখনো কোনো সমাধান হয়নি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পলাশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহেদ আল মামুন মুঠোফোনে বলেন, পারুলিয়া ও জিনার দিক মিলিয়ে পুলিশ মাঝে মাঝে প্রায় ২০টি গাড়ি ব্যবহার করে থাকে। সরকারি গাড়ির সংকট থাকায় মাসে একটি গাড়ি ব্যবহারের প্রয়োজন পড়ে। তবে অন্যান্য গাড়ি থেকে ৫০০ টাকা করে আদায়ের বিষয়ে তিনি অবগত নন।
তিনি আরও বলেন, আমাদের পুলিশের কেউ এই কাজে জড়িত নয়। স্থানীয়ভাবে কেউ কমিটি করে অটো বা সিএনজি থেকে ২০ টাকা নিচ্ছে বলে শুনেছি। তবে বড় অঙ্কের টাকা আদায়ের অভিযোগ আমার নলেজে নেই। কেউ যদি এ ধরনের চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত থাকে, দ্রুত তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। আমার থানার এলাকায় এমন কর্মকাণ্ড চলতে দেওয়া হবে না।
তবে এ বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য অভিযুক্ত সুলেমান মিধা ও দৌলতের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি। ফলে তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এ সড়কে বিভিন্ন অজুহাতে যানবাহন থেকে অর্থ আদায় করা হচ্ছে। বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।