পিলখানায় সেদিন নিজের ক-বর নিজেকে খুঁড়তে বাধ্য করা হয়, কর্নেল গুলজারকে! "হ্যালো হেডকোয়ার্টার আমি কর্নেল গুলজার বলছি কিছু ফোর্স পাঠান, ওরা ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে"বলেও কারো মন গলাতে পারেন নি তিনি।
সেদিন এই চৌকস মেধাবী সেনা অফিসারকে খুবই নির্মম-ভাবে আর নৃশংস-ভাবে হত্যা করে বিদ্রোহীরা! ঘটনার ১০ দিন পর পিলখানায় মাটি খুঁড়ে তার বি-কৃত ক্ষতবি-ক্ষত মরদেহ, উদ্ধার করা হয়!
তারা এতোটাই অমা-নবিক ছিল যে! কর্নেল গুলজার কে তারা নিজের কবর নিজেকে খুঁড়-তে বাধ্য করছিল, হেড কোয়ার্টারে ২ বার কল দিয়ে, এতোটা আকুতি মিনতি করেও! সেদিন কারো মন গলাতে পারেননি, কর্নেল গুলজার।
অথচ দেশে যখন জঙ্গির উৎপাত শুরু হয়েছিল এই কর্নেল গুলজারের নেতৃত্বেই দেশ জঙ্গিবাদ মুক্ত হয়েছিল! মির্জা আজমের বোন জামাই শায়েখ আবদুর রহমানকে ও বাংলা ভাইকে গ্রেপ্তারের সফল অভিযান পরিচালনা করছিলেন তিনি।
মির্জা আজমের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশই ছিল তার বিকৃ-ত আর ক্ষত-বিক্ষত লাশ, পিলখানায় সেদিন কাউকেই এতোটা নৃশংস-ভাবে মারা হয়নি। সেদিন মির্জা আজম নাকি নিজেই কর্নেল গুলজারের লাশ শনাক্ত করে, হেসেছিলেন খুব।
কর্নেল গুলজাররা ছিলেন দেশের জন্য লড়ে যাওয়া দেশপ্রেমিক! অথচ তাদেরই নৃশংস-ভাবে হত্যার ভাগ্য বরণ করতে হয়েছিল! কোনো দেশের ইতিহাসে যুদ্ধ ছাড়া ৫৭ জন সেনা অফিসার হত্যা--র নজীর নেই!
বাংলাদেশ সেই নজীর গড়লেও বিচার নেই! পিলখানা ঘটনার আজ ১৭ বছরের উপরে, অথচ এই ঘটনার পরিপূর্ণ তদন্ত, আর বিচার কিছুই হয় নাই! এটা জাতি হিসেবে আমাদের জন্য ব্যার্থতার। জাতি এমন নৃশং-স হত্যার বিচার চেয়ে চেয়ে আজ আশাহত তবুও পথ চেয়ে বসে আছে, কবে হবে বিচার? বিচার পাবে কবে।