Primeedition
মুক্তি পাওয়া বন্দি জানিয়েছেন,যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের অভ্যন্তরে শুধু মাত্র বন্দিদের জন্য গড়ে তোলা ক্যান্টিনের ব্যবসা রমরমা। এই ক্যান্টিনে বেচাকেনার জন্য একজন বন্দির জন্য কারাগারে প্রবেশের সময় পিসি (পার্সোনাল কার্ড) তৈরী করা হয়। যে কার্ডে হাজতী কিংবা কয়েদী বন্দির উদ্দেশ্যে তাদের আত্মীয়স্বজনের দেওয়া অর্থ জমা হয়। যে কার্ডের মাধ্যমে বন্দি হাজতী ও কয়েদী আসামীরা কারাগারের অভ্যন্তরে ক্যান্টিন থেকে ইচ্ছা মাফিক খাওয়া করে পিসি কার্ড দিয়ে পন্য মূল্যর অর্থ কেটে নিয়ে থাকেন।
একজন বন্দির পিসি কার্ড তার নিজের কাছে রাখা হয়। কারাগারের বন্দিদের ক্যান্টিনে বর্তমানে ৪পিস টমেটো ৪০ টাকা,৪পিস গাজর ৪০ টাকা,১পিস ছোট সাইজের পাকা কলা ১০ টাকা,১পিস সিঙ্গাড়া ২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রতিটি মালামাল বাইরে থেকে কয়েকগুন বেশী দরে বিক্রির কথা জানিয়েছেন। এই ক্যান্টিনে প্রতিমাসে নূন্যতম ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা বেচাকেনা হয়ে থাকে। ১লাখ টাকার পন্য বন্দিদের ক্যান্টিনে বিক্রি হয় ৭ থেকে ১০ লাখ টাকায়। এই ক্যান্টিন পরিচালনার জন্য কারাগারে কর্মরত দু’জন রক্ষি দায়িত্ব পালন করেন।
জেলার ক্যান্টিন পরিচালনার দায়িত্ব বন্টন করেন বলে তিনি জানিয়েছেন। তবে এই ক্যান্টিন ব্যবসার টাকা কোথায় যাচ্ছে সে ব্যাপারে তিনি কিছু জানাতে পারেননি। একজন ব্যক্তি বাইরে থেকে বিভিন্ন অপরাধসহ নানান কারনে কারাগারে যাওয়ার পর তার পরিবার পিসিতে টাকা দিতে নাভিশ^াস হয়ে উঠছে। কারাগারের ক্যান্টিনে আরো বিক্রি হয় ১ টুকরো গরুর মাংস দেড়শ’ টাকার অধিক। এভাবে একজন বন্দির জন্য সরকার কর্তৃক সরবরাহ খাবারের মান খারাপ করায় বাধ্য হয়ে ক্যান্টিনের প্রতি বন্দিরা ঝুঁকছে ।
আরো জানাগেছে,কারাগারে বন্দিদের জন্য তিন বেলা যে পরিমান খাবার সরবরাহ করা হয় তার মান খুব খারাপ। এখানে গরীব অসহায়দের জন্য জোটে সরকার কর্তৃক বরাদ্ধকৃত খাবার। এখানে প্রতিদিন সকালে ১টি রুটির সাথে হালুয়া বা সবজি (ভকম) দেয়া হয়। দুপুরে ভাতের দেয়া হয় পাতলা ডাল ও সবজি (ভকম) ও সন্ধ্যায় ভাতের দেয়া হয় পাতলা ডাল ও সবজি(ভকম)। তবে সপ্তায় মাছ জোটে সিলভার কার্প ও তেলাপিয়া। তবে বন্দিদের জন্য যে মাছ ও মাংস বরাদ্ধ রয়েছে তা যথাযথ ভাবে দেয়া হয়না বলে অভিযোগ করেন তিনি।
কারাগারে বন্দিদের জন্য স্থাপিত হাসপাতালে রয়েছে আরেকচিত্র। এখানে একজন বন্দিকে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিতে প্রথমে ১০ হাজার টাকা গুনতে হয়। এরপর তাকে প্রতিমাসে হাসপাতালে বিছানায় থাকা বাবদ ৪ হাজার টাকা গুনতে হয়। তাছাড়া,বন্দিদের হাসপাতালে সরকারিভাবে বরাদ্ধকৃত ওষুধ তেমন মেলেনা।
যার কারনে কারাগারে একজন বন্দি যথাযথ চিকিৎসা না পাওয়ার ফলে সামান্য জ¦রসহ বিভিন্্ন রোগ নিয়ে কাতরাচ্ছেন।কাতরানোর এক পর্যায় অবস্থা খারাপ হলে সরকারি হাসপাতাল যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করার ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়। এ ব্যাপারে কারা কর্তৃপক্ষের আশু দৃষ্টি কামনা করেও কোন ফল হয়না। তবে কারা কতৃপক্ষর কাছে এ ব্যাপারে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে তারা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন।
মন্তব্য করুন