জেলায় যাতায়াতের অন্যতম প্রধান কেন্দ্রবিন্দু জয়পুরহাট রেলস্টেশন এখন যেন অন্ধকারের চাদরে ঢাকা। এক সময়ের ঝকঝকে এই স্টেশনটি বর্তমানে আলোর অভাবে রাতে 'ভূতুড়ে' এলাকায় পরিণত হয়েছে। এতে চরম নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীসহ স্টেশনে কর্মরত রেল শ্রমিকরা।
নিভে গেছে আলো, বেড়েছে আতঙ্ক
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রাতের স্টেশনের অধিকাংশ প্ল্যাটফর্ম এবং আশপাশের এলাকা ঘুটঘুটে অন্ধকারে নিমজ্জিত। পর্যাপ্ত বাতি না থাকায় দূর থেকে আসা যাত্রীরা প্ল্যাটফর্মে চলাফেরা করতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন। স্থানীয়দের মতে, মাত্র দুই বছর আগেও এই স্টেশনটি রাতে দিনের আলোর মতো ঝলমল করত। কিন্তু রক্ষণাবেক্ষণের অভাব আর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় এখন চিত্রটি সম্পূর্ণ উল্টো।
অন্ধকারের মধ্যেই চলছে রেলের কাজ
সবচেয়ে অবাক করার বিষয় হলো, খোদ রেলের শ্রমিকদেরও চরম প্রতিকূলতার মধ্যে কাজ করতে হচ্ছে। পর্যাপ্ত আলো না থাকায় শ্রমিকরা অন্ধকারের মধ্যেই কাঠের ভারী স্লিপার টানার মতো ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করছেন। এতে যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন শ্রমিকরা। তাদের অভিযোগ, আলো না থাকায় কাজের গতি কমছে এবং শারীরিক আঘাত পাওয়ার ভয় সবসময় তাড়া করে বেড়ায়।
যাত্রী ও ব্যবসায়ীদের ক্ষোভ
স্টেশনে ট্রেনের অপেক্ষায় থাকা যাত্রীরা জানান, আলো না থাকায় পকেটমার ও ছিনতাইকারীদের উপদ্রব বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের নিয়ে ট্রেন থেকে নামার সময় তারা সবচেয়ে বেশি নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন। স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম সংলগ্ন ব্যবসায়ীরাও অন্ধকারের কারণে তাদের ব্যবসায়িক ক্ষতির কথা উল্লেখ করেছেন।
প্রত্যাশা
জয়পুরহাট জেলার প্রধান এই প্রবেশদ্বারটি কেন এমন অবহেলিত, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত নষ্ট হয়ে যাওয়া লাইটগুলো মেরামত করে স্টেশনের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জন্য রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন জয়পুরহাটবাসী।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য:
এ বিষয়ে স্থানীয় রেল কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা দ্রুত সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিলেও সুনির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা জানাতে পারেননি।