নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলায় সার্বিয়া ও ইতালিতে কাজের ভিসায় পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে একটি দালাল চক্র লাপাত্তা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের শতাধিক পরিবার চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে। প্রতারণার শিকার ভুক্তভোগীরা পরিত্রাণ ও ন্যায়বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রায়পুরা উপজেলার মেথিকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন মাঠে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীরা জানান, দালাল চক্রটি ইউরোপের দেশ সার্বিয়া ও ইতালি-তে বৈধভাবে কাজের ভিসায় পাঠানোর আশ্বাস দেয়। প্রতিজনের কাছ থেকে ৮ থেকে ১২ লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়।
ভুক্তভোগীদের দাবি, অনেকেই জমি বিক্রি করে, এনজিও ও ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে এসব টাকা পরিশোধ করেন। কয়েক মাসের মধ্যে ভিসা ও ফ্লাইটের প্রতিশ্রুতি দিলেও নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও কাউকে বিদেশে পাঠানো হয়নি।
অভিযোগে বলা হয়, চক্রটির মূলহোতা খন্দকার কায়সার মাহমুদ বুলবুল। তার সহযোগীরা টাকা নেওয়ার পর মোবাইল ফোন বন্ধ করে আত্মগোপনে চলে যায়। কেউ কেউ দালালদের অফিসে গেলে সেটিও বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে ভুক্তভোগীরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, কয়েকজনকে শ্রীলঙ্কা ও মিশর-এ নিয়ে গিয়ে ব্ল্যাকমেইল করে অতিরিক্ত ২ থেকে ৪ লাখ টাকা আদায় করা হয়েছে। এখন টাকা ফেরত চাইলে অভিযুক্তরা প্রভাবশালী আত্মীয়দের নাম ভাঙিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে বলেও দাবি করেন ভুক্তভোগীরা।
সংবাদ সম্মেলনে এক ভুক্তভোগী বলেন,
“বিদেশে গিয়ে কাজ করে পরিবারের ভাগ্য বদলানোর স্বপ্ন দেখেছিলাম। এখন ঋণের চাপে ঘরবাড়ি হারানোর উপক্রম হয়েছে।”
আরেকজন জানান,
“আমার দুই ছেলেকে ইতালি পাঠানোর কথা বলে ২০ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে। এখন দালালদের কোনো খোঁজ নেই।”
ভুক্তভোগীরা দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার, টাকা উদ্ধার এবং কঠোর শাস্তির দাবি জানান। তারা বলেন, প্রয়োজন হলে বৃহত্তর আন্দোলনে নামবেন। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে থানায় একাধিক সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে বলেও জানান তারা।
এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
রায়পুরার সাধারণ মানুষও এ ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং দ্রুত দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।